বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণের বিস্তারিত


সুন্দরবন, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ একটি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা অংশ উপভোগ করা সম্ভব। এখানে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হলো:

ভ্রমণের শুরু:

  • ঢাকা থেকে সুন্দরবন: ঢাকা থেকে মংলার দুরত্ব ২১৫ কিঃ মিঃ। যেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। ঢাকা থেকে রাত ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ভালো হয়।
  • খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা থেকে সুন্দরবনে ঘোরার জন্য লঞ্চ বা ট্রলার ভাড়া করতে হবে। এটি আগে থেকে বুক করে রাখলে সুবিধা হবে।

দিনের শুরু:

  • সকাল ৬:০০টা - ৭:০০টা: খুব ভোরে রওনা দিন, যাতে দিনের আলো পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়।
  • সকাল ৭:০০টা - ৯:০০টা: লঞ্চ বা ট্রলারে করে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন।

দর্শনীয় স্থান:

  • করমজল: এটি সুন্দরবনের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। এখানে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ এবং বানর দেখা যায়।
  • হাড়বাড়িয়া: এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে, যেখান থেকে বনের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
  • কটকা: এটি একটি সমুদ্র সৈকত এবং এখানেও হরিণ ও বাঘ দেখার সম্ভাবনা থাকে। তবে একদিনে কটকা যাওয়া সম্ভব নয়।
  • দুপুরের খাবার:

    • লঞ্চ বা ট্রলারেই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকে। সাধারণত স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।

    বিকেল:

    • বিকেল ৩:০০টা - ৪:০০টা: সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীপথে ভ্রমণ করুন। এই সময় বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

    সন্ধ্যা:

    • সন্ধ্যা ৬:০০টা - ৭:০০টা: খুলনা/মংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
    • রাত ৮:০০টা - ১০:০০টা: খুলনা/মংলায় ফিরে আসুন এবং রাতের বাসে  ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।

    কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

    • সুন্দরবনে যেতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।
    • ভ্রমণের সময় জোয়ার-ভাটার দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
    • বন্যপ্রাণী দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে হয় এবং শান্ত থাকতে হয়।
    • ভ্রমণের আগে লঞ্চ বা ট্রলারের ফি এবং অন্যান্য খরচ জেনে নিন।
    • সুন্দরবনে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা হতে পারে।
    • ভ্রমণের সময় সাথে পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় নিন।
    • বন্যজীবনের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।
    • এই পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিনে সুন্দরবনের কিছুটা অংশ ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে সুন্দরবনের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে কমপক্ষে ২-৩ দিনের ভ্রমণের প্রয়োজন।


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পশুর নদীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব

  পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৪২ কিলোমিটার, প্রস্থ ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কিলোমিটা...