সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) মাজার।


 

হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) ছিলেন একজন সুফি সাধক ও ধর্ম প্রচারক। তিনি পঞ্চদশ শতকে বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মাজারের ইতিহাস নিম্নরূপ:

  • জন্ম ও পরিচয়:
    • খান জাহান আলীর প্রকৃত জন্ম তারিখ অজানা। ঐতিহাসিকদের মতে, তার বাল্যনাম ছিল কেশর খান।
    • তিনি দিল্লিতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
    • তিনি প্রায় ৪০ বছর দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রচার ও শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
  • বাংলাদেশে আগমন ও কার্যক্রম:
    • ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি যশোরের বারবাজারে অবস্থান করেন এবং বাংলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার শুরু করেন।
    • তিনি সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ত পানির পরিবর্তে মিঠা পানির ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে সৈন্যবাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৩৬০টি দিঘি খনন করেন।
    • তিনি বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অনেক মসজিদ ও দিঘি নির্মাণ করেন।
  • স্থাপত্যশৈলী:
    • খান জাহান আলী তার তৈরি স্থাপনাগুলোতে একটি নতুন স্থাপত্যশৈলীর প্রবর্তন করেছিলেন, যা তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
    • তিনি ৫০টিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছিলেন।
  • মৃত্যু ও মাজার:
    • ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
    • তার সমাধি সৌধটি একটি বর্গাকার ভবন, যার উপরে একটি গম্বুজ রয়েছে।
    • তার মাজারে লিখিত শিলালিপি থেকে তার জীবনের বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।
    • তার মাজারটি একটি পবিত্র স্থান, যেখানে প্রতি বছর বহু ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
  • গুরুত্ব:
    • হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনও বটে।
    • খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজার প্রাঙ্গণে একটি জাদুঘর রয়েছে, যেখানে তার ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

এই মাজারটি তৎকালীন স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন।

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণের বিস্তারিত


সুন্দরবন, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ একটি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা অংশ উপভোগ করা সম্ভব। এখানে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হলো:

ভ্রমণের শুরু:

  • ঢাকা থেকে সুন্দরবন: ঢাকা থেকে মংলার দুরত্ব ২১৫ কিঃ মিঃ। যেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। ঢাকা থেকে রাত ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ভালো হয়।
  • খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা থেকে সুন্দরবনে ঘোরার জন্য লঞ্চ বা ট্রলার ভাড়া করতে হবে। এটি আগে থেকে বুক করে রাখলে সুবিধা হবে।

দিনের শুরু:

  • সকাল ৬:০০টা - ৭:০০টা: খুব ভোরে রওনা দিন, যাতে দিনের আলো পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়।
  • সকাল ৭:০০টা - ৯:০০টা: লঞ্চ বা ট্রলারে করে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন।

দর্শনীয় স্থান:

  • করমজল: এটি সুন্দরবনের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। এখানে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ এবং বানর দেখা যায়।
  • হাড়বাড়িয়া: এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে, যেখান থেকে বনের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
  • কটকা: এটি একটি সমুদ্র সৈকত এবং এখানেও হরিণ ও বাঘ দেখার সম্ভাবনা থাকে। তবে একদিনে কটকা যাওয়া সম্ভব নয়।
  • দুপুরের খাবার:

    • লঞ্চ বা ট্রলারেই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকে। সাধারণত স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।

    বিকেল:

    • বিকেল ৩:০০টা - ৪:০০টা: সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীপথে ভ্রমণ করুন। এই সময় বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

    সন্ধ্যা:

    • সন্ধ্যা ৬:০০টা - ৭:০০টা: খুলনা/মংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
    • রাত ৮:০০টা - ১০:০০টা: খুলনা/মংলায় ফিরে আসুন এবং রাতের বাসে  ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।

    কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

    • সুন্দরবনে যেতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।
    • ভ্রমণের সময় জোয়ার-ভাটার দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
    • বন্যপ্রাণী দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে হয় এবং শান্ত থাকতে হয়।
    • ভ্রমণের আগে লঞ্চ বা ট্রলারের ফি এবং অন্যান্য খরচ জেনে নিন।
    • সুন্দরবনে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা হতে পারে।
    • ভ্রমণের সময় সাথে পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় নিন।
    • বন্যজীবনের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।
    • এই পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিনে সুন্দরবনের কিছুটা অংশ ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে সুন্দরবনের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে কমপক্ষে ২-৩ দিনের ভ্রমণের প্রয়োজন।


 

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর



বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের অবস্থানঃ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরটি ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত। এটি বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর নামেও পরিচিত। ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত নভোথিয়েটারের পশ্চিম পাশে এই যাদুঘরটির অবস্থান। জাদুঘরটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। এই যাদুঘরটিতে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাস ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম নিদর্শন প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের দেশের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।

যাদুঘরটি পরিদর্শণের সময় সূচী ঃ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর সাধারণত শনি থেকে বৃহস্পতিবার খোলা থাকে এবং বুধবার বন্ধ থাকে। এছাড়াও, সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও জাদুঘর বন্ধ থাকে।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা (বুধবার শুক্রবার বাদে)
  • বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা (বুধবার বাদে)

 

যাদুঘরে প্রবেশের টিকেট মূল্য ঃ

জাদুঘরে প্রবেশ করতে হলে টিকেট কাটতে হয়। বাংলাদেশী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকেটর দাম ১০০ টাকা,

সার্কভূক্ত দেশগুলির দর্শনার্থীদের জন্য জন প্রতি ৩০০ টাকা এ্বং অন্যান্য দেশগুলির দর্শনার্থীর জন্য জন প্রতি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ ফ্রি। আপনি চাইলে অনলাইনেও টিকেট কাটতে পারেন।

 

সামরিক যাদুঘরে কি কি দেখবেন ঃ

জাদুঘরের ভিতরে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম, যেমন - অস্ত্র, যুদ্ধাস্ত্র, এবং সামরিক যান দেখতে পাবেন। এছাড়াও, এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অবদান সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম নিদর্শন দেখতে পাবেন, যা দেশের সামরিক ইতিহাস ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। এখানে কিছু উল্লেখযোগ্য জিনিস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

  • সামরিক যান: এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান দেখতে পাবেন, যেমন - ট্যাংক, সামরিক ট্রাক, জিপ ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কিছু যান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  • অস্ত্র গোলাবারুদ: জাদুঘরে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ঐতিহাসিক অস্ত্র গোলাবারুদ প্রদর্শিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে রাইফেল, মেশিনগান, কামান, এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র।
  • সামরিক পোশাক সরঞ্জাম: এখানে বিভিন্ন সময়কালের সামরিক পোশাক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়, যা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত হত।
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন নিদর্শন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছবি, দলিল, এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখা যায়।
  • বঙ্গবন্ধু কর্নার: এখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক জীবন অবদান সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ছবি প্রদর্শিত আছে।

এছাড়াও, জাদুঘরে আরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন তথ্য রয়েছে যা আপনাকে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

 

সামরিক যাদুঘরে ঘুরতে এসে কি খাবেনঃ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে ঘোরার পাশাপাশি সেখানে কিছু খাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। জাদুঘরের ভেতরেই একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে, যেখানে আপনি হালকা খাবার পানীয় পেতে পারেন। এখানে কিছু সাধারণ খাবারের উদাহরণ দেওয়া হলো:

  • স্ন্যাকস: বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস যেমন - স্যান্ডউইচ, রোল, সমুচা, পেটিস ইত্যাদি পাওয়া যায়।
  • পানীয়: চা, কফি, কোমল পানীয়, এবং মিনারেল ওয়াটার এর ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়াও, জাদুঘরের আশেপাশে অনেক রেস্টুরেন্ট ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে, যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের খাবার উপভোগ করতে পারেন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী, আপনি এই দোকানগুলো থেকে আপনার খাবার বেছে নিতে পারেন।

জাদুঘরের ভেতরে খাবার পানীয় নিয়ে যাওয়া সাধারণত নিষেধ। তবে, আপনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যেতে পারেন।

 

এই সামরিক যাদুঘর সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-

https://www.youtube.com/@TravelFamilybd

পশুর নদীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব

  পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৪২ কিলোমিটার, প্রস্থ ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কিলোমিটা...