সোনারগাঁও জাদুঘর: বাংলাদেশের ঐতিহ্যের জীবন্ত জাদুঘর
সোনারগাঁও, একসময় বাংলার রাজধানী, আজও তার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও লোকশিল্পের জন্য পরিচিত। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের অধীনেই গড়ে উঠে সোনারগাঁও জাদুঘর, যা বাংলাদেশের লোকশিল্পের একটি অনন্য সংগ্রহশালা।
জাদুঘরের ইতিহাস ও গুরুত্ব
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে।
- উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরা।
- সংগ্রহ: প্রায় ৪৫০০-এর অধিক প্রাচীন নিদর্শন।
- বিশেষত্ব: বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার প্রাচীন শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের তৈরী বিভিন্ন শৈল্পিক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্য সামগ্রী।
জাদুঘরে কি কি দেখা যাবে?
- লোকশিল্পের নানা রূপ: মৃন্ময় শিল্প, কাঠের কাজ, তামার কাজ, সুতার কাজ, বাঁশের কাজ, পাথরের খোদাই ইত্যাদি।
- প্রাচীন বাংলার গৃহস্থালির সামগ্রী: পাত্র, বাসন, আসবাবপত্র, আলংকারিক সামগ্রী ইত্যাদি।
- ধর্মীয় মূর্তি ও প্রতীক: বিভিন্ন ধর্মের মূর্তি ও প্রতীক।
- প্রাচীন বাংলার পোশাক: বিভিন্ন সময়ের পুরুষ ও নারীর পোশাক।
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কাজ: তাঁর কিছু মূল্যবান কাজও এখানে সংরক্ষিত আছে।
কেন সোনারগাঁও জাদুঘর দেখতে যাবেন?
- বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাক্ষী: বাংলাদেশের লোকশিল্পের ইতিহাস ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে।
- শিল্প ও সংস্কৃতির সমন্বয়: শিল্প ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় উপভোগ করতে।
- শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক: শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি স্থান।
- দেশপ্রেম জাগানো: দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগানো।
ভ্রমণের পরিকল্পনা
- কোথায়: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
- কখন যাবেন: বছরের যেকোন সময়।
- কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সোনারগাঁও যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন বা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
- কত খরচ হবে: প্রবেশ মূল্য এবং ভ্রমণ খরচ।
আরও জানতে
সোনারগাঁও জাদুঘর শুধু একটি জাদুঘর নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত জাদুঘর।
আপনি কি সোনারগাঁও জাদুঘর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?
আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন।
আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আরও জানতে চান, তাহলে আমাকে জানান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন