বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৫

হিজল তমাল রিসোর্টের সম্পূর্ণ গাইড লাইন।


 

হিজল তমাল রিসোর্ট। ঢাকা পূর্বাচল নিই টাউনের খুব কাছেই গাজীপুরের উদুর আমতলা নামক স্থানে এই রিসোটটি গড়ে উঠেছে । হিজল, তমাল সহ হাজারো ফুলের সমারোহ রয়েছে এখানে। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে অনভব করতে চাইলে আসতে পারেন এই রিসোর্ট টিতে। কিভাবে যাবেনঃ ঢাকার কুড়িল থেকে বিআরটিসি বাস অথবা যে কোন যোগে ৩০০ ফিট রাস্তা হয়ে আসতে হবে কাঞ্চন ব্রীজ পয়েন্টে। এখান থেকে সি.এস.জি অথবা অটোরিস্কা করে এশিয়ান হাইওয়ে রোড হয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই চলে আসতে পারেন উদুর আমতলা নামক স্থানে হিজল তমাল রিসোর্টে। হিজল তমাল নামকরণ ঃ এখানে প্রচুর হিজল ও তমাল গাছ থাকায় এই রিসোর্টটির নাম করণ করা হয়েছে হিজল তামাল রিসোর্ট। প্রবেশ টিকেট ঃ রিসোর্টিতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কোন টিকেটের প্রয়োজন হয় না, তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই রিসোর্টটি ঘুরে দেখতে পারবেন। এছাড়াও যারা পিকনিক পার্টি করতে চান তাদেরকে রিসোর্ট ভাড়া দিয়েই পিকনিক পার্টি করতে হবে। এই রিসোর্টে কি কি থাকছে ঃ রিসোর্টটির মূল ফটকে প্রবেশ করলেই পেয়ে যাবে অসংখ্য ফুলের সমারহ যা দেখলে আপনার মন সতেজ হয়ে যাবে। রিসোর্টটির ২য় গেটের আগে রয়েছে বেশ বড় আকারের খালি যায়গা রয়েছে। যেখানে আগত দর্শনার্থীদের গাড়ী পার্কিং করে রাখতে পারবেন। ২য় গেটে প্রবেশ করলে হাতের বা পাশে পেয়ে যাবেন ছোট্ট আর একটি গার্ডেন, আর এই গার্ডেন কে কেন্দ্র করে নিজেকে ক্যমেরায় ফ্রেমে বন্দী করে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২টি ছোট্ট কটেজ সেই সাথে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রয়েছে একটি পানির ফোয়ারাও। আর হাতের ডান পাশে রয়েছে আর একটি গার্ডেন যেখানে চায়ের আড্ডাই মেতে থাকার জন্য রয়েছে একটি টি পয়েন্ট। সামনের দিকে রিসোর্টের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি ভাসমান ব্রিজ এবং ব্রিজের বা পাশে রয়েছে একটি ভাসমান ছোট্ট গার্ডেন। যেখানে বিকাল বেলা নিরিবিল বসে সময় কাটাতে পারবেন। পুরা রিসোর্ট জুড়ে রয়েছে ইটের রাস্তা এবং রাস্তার দুপাশে পাতা বাহারের সমারহ। রয়েছে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য ছোট্ট একটি মাঠ। এখানে রয়েছে একটি ফুটবলা খেলার মাঠ। এই রিসোর্টটির রাস্তায় হাটলে মনে হবে আপনি কোন এক গ্রামের গহীন অরণ্যে আপনি হারিয়ে যাচ্ছেন। রিসোর্টটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত খালি যায়গা। যেখানে পিকনিক পার্টির বিভিন্ন প্রগ্রাম করার জন্য রয়েছে একটি সুন্দর ষ্টেজ। রিসোর্টটিতে রয়েছে আম, জাম, কাঠাল, লিচু সহ অসংখ্য গাছপালা। চারিদিকে সবুজের সমারহ, গাছে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরণের দোলনা, এছাড়াও রয়েছে বসে বিনোদোনের জন্য ছিটিং পয়েন্ট। এখানে রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামে বাশের তৈরি কটেজ যা গ্রমীণ পরিবেশেরর অবকাঠামো ঠিক রেখেই দক্ষ করিগর দিয়ে এই কটেজটি তৈরি করা হয়েছে। কটেজটির পাশেরই রয়েছে ঢেকি ঘর। এই ঢেকি সম্পর্কে আধুনিক সভ্যতার অনেকেরিই হয়তো ধারণা নাই। এখানে রয়েছে আরও একটি কটেজ যা, গ্রামীণ বাড়ী ঘরের আদলে তৈরি করা হয়েছে। যার ভিতরে রয়েছে আধুনিকতার ছোয়া ঢাকার ইট কাঠের ব্যস্ত শহরের দূষণ পরিবেশ থেকে বের হয়ে গ্রামীন পরিবেশে প্রশান্তির নিশ^াস নিতে পারবেন এই রিসোর্টটিতে। রিসোটটির চার পাশ দিয়ে রয়েছে সুন্দর ইটের রাস্তা, আর এই রাস্তার কিছু দুর পরপর রয়েছে ছোট ছোট বাশের তৈরি কটেজ যেখানে বসে চায়ের আড্ডায় কিছুটা সময় পার করতে পারেন। রিসোর্ট ভাড়ার বিস্তারিত ঃ রিসোর্টটিতে সাধারণ দর্শনার্থদের জন্য কোন টিকেট লাগেনা তবে যারা পিকনিক স্পট হিসাবে ভাড়া নিতে চান তারা তার 01915-048311 অথবা 01717-736964 এই নাম্বারে যোগাযোগ করে রিসোর্টটি ভাড়া নিতে পারবেন।

বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫

সোনারগাঁও জাদুঘর, নারয়নগঞ্জ । বাংলাদেশের ঐতিহ্যের জীবন্ত জাদুঘর


 

সোনারগাঁও জাদুঘর: বাংলাদেশের ঐতিহ্যের জীবন্ত জাদুঘর

সোনারগাঁও, একসময় বাংলার রাজধানী, আজও তার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও লোকশিল্পের জন্য পরিচিত। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের অধীনেই গড়ে উঠে সোনারগাঁও জাদুঘর, যা বাংলাদেশের লোকশিল্পের একটি অনন্য সংগ্রহশালা।

জাদুঘরের ইতিহাস ও গুরুত্ব

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে।
  • উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরা।
  • সংগ্রহ: প্রায় ৪৫০০-এর অধিক প্রাচীন নিদর্শন।
  • বিশেষত্ব: বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার প্রাচীন শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের তৈরী বিভিন্ন শৈল্পিক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্য সামগ্রী।

জাদুঘরে কি কি দেখা যাবে?

  • লোকশিল্পের নানা রূপ: মৃন্ময় শিল্প, কাঠের কাজ, তামার কাজ, সুতার কাজ, বাঁশের কাজ, পাথরের খোদাই ইত্যাদি।
  • প্রাচীন বাংলার গৃহস্থালির সামগ্রী: পাত্র, বাসন, আসবাবপত্র, আলংকারিক সামগ্রী ইত্যাদি।
  • ধর্মীয় মূর্তি ও প্রতীক: বিভিন্ন ধর্মের মূর্তি ও প্রতীক।
  • প্রাচীন বাংলার পোশাক: বিভিন্ন সময়ের পুরুষ ও নারীর পোশাক।
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কাজ: তাঁর কিছু মূল্যবান কাজও এখানে সংরক্ষিত আছে।

কেন সোনারগাঁও জাদুঘর দেখতে যাবেন?

  • বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাক্ষী: বাংলাদেশের লোকশিল্পের ইতিহাস ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে।
  • শিল্প ও সংস্কৃতির সমন্বয়: শিল্প ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় উপভোগ করতে।
  • শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক: শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি স্থান।
  • দেশপ্রেম জাগানো: দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগানো।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

  • কোথায়: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
  • কখন যাবেন: বছরের যেকোন সময়।
  • কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সোনারগাঁও যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন বা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
  • কত খরচ হবে: প্রবেশ মূল্য এবং ভ্রমণ খরচ।

আরও জানতে

সোনারগাঁও জাদুঘর শুধু একটি জাদুঘর নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত জাদুঘর।

আপনি কি সোনারগাঁও জাদুঘর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন।

আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আরও জানতে চান, তাহলে আমাকে জানান।

সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৫

চন্দ্রিমা/জিয়া উদ্যানের অজানা ইতিহাস


 

চন্দ্রিমা/জিয়া উদ্যানের ইতিহাস

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ। এই উদ্যানটি শুধুমাত্র একটি সবুজ স্থান নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অংশও বহন করে।

সর্বপ্রথম এই উদ্যানটির নাম ছিল চন্দ্রিমা উদ্যান, এই নামটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এই স্থানটিতে চন্দ্রিমা নামের একজনে বাড়ি ছিল এখানে, এই চন্দ্রিমা নাম থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে।

আবার অনেকের মুখে সেনা যায় এই উদ্যানটির দক্ষিণ পাশে ক্রিসেন্ট লেকটি অর্ধচন্দ্রের মত করে তৈরি করা হয়েছে বলে এই লেককে প্রাধান্য দিয়ে প্রক্তন রাষ্ট্রপতি হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ এই উদ্যানটির নাম দিয়েছে চন্দিমা উদ্যান।

 



চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে জিয়া উদ্যান: প্রথমে এই উদ্যানটি চন্দ্রিমা উদ্যান নামে পরিচিত ছিল। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এখানে সমাহিত করা হয়। এরপর থেকে এই স্থানটির নাম পরিবর্তন করে জিয়া উদ্যান করা হয়।

  • ক্ষমতার পালাবদল এবং নাম পরিবর্তন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওঠা-নামার সাথে সাথে এই উদ্যানের নামও বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই উদ্যানের নাম চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে জিয়া উদ্যান এবং আবার জিয়া উদ্যান থেকে চন্দ্রিমা উদ্যান রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই উদ্যানটি জিয়া উদ্যান নামে রয়েছে।
  • দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর: জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করার পর থেকে এই স্থানটিকে দর্শনার্থীদের জন্য মনোরম একটি স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এখানে একটি সুন্দর বাগান, হ্রদ এবং একটি আধুনিক সেতু রয়েছে।
  • রাজনৈতিক গুরুত্ব: জিয়া উদ্যান শুধুমাত্র একটি উদ্যান নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের কাছে এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র।




কেন জিয়া উদ্যান গুরুত্বপূর্ণ?

  • ইতিহাসের সাক্ষী: জিয়া উদ্যান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
  • ধর্মীয় অনুভূতি: বিএনপি সমর্থকদের জন্য এই স্থানটি একটি ধর্মীয় অনুভূতি জাগায়।
  • সামাজিক কেন্দ্র: এই উদ্যানটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি সামাজিক কেন্দ্রও।
  • দর্শনীয় স্থান: ঢাকার একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।

কিছু তথ্য

  • অবস্থান: ঢাকার শেরেবাংলা নগর।
  • নামকরণ: জিয়াউর রহমানের নামানুসারে।
  • মূল ব্যবহার: আগে চাষাবাদ এবং গবাদিপশুর খামার।
  • বর্তমান ব্যবহার: উদ্যান, সমাধিস্থল, দর্শনীয় স্থান।

আপনি কি জিয়া উদ্যান সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চান?

  • আপনি জিয়াউর রহমানের জীবনী সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে বলুন।
  • এই উদ্যানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে বলুন।
  • এই উদ্যানে যাওয়ার নির্দেশনা চাইলে আমাকে বলুন।

পশুর নদীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব

  পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৪২ কিলোমিটার, প্রস্থ ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কিলোমিটা...