সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫

পশুর নদীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব


 

পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৪২ কিলোমিটার, প্রস্থ ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কিলোমিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক পশুর নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৫১।

পশুর নদীটি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়নে প্রবহমান ভৈরব নদী হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা একই জেলার দাকোপ উপজেলার খুলনা রেঞ্জ ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিপতিত হয়েছে। নদীতে সারাবছর পানিপ্রবাহ থাকে এবং ছোটবড় নৌযান চলাচল করে। নদীটির উজানের তুলনায় ভাটির দিক অধিক প্রশস্ত।   

পশুর নদী সুন্দরবনের এক অতি বৃহৎ নদী, প্রকৃতপক্ষে রূপসা নদীরই বর্ধিত রূপ। খুলনার দক্ষিণে ভৈরব বা রূপসা নদী আরও দক্ষিণে মংলা বন্দরের কাছে পশুর নামে প্রবাহিত হয়ে ত্রিকোনা ও দুবলা দ্বীপ দুটির ডানদিক দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মংলার দক্ষিণে পশুর সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গড়াই নদীর অধিকাংশ পানি নবগঙ্গার মাধ্যমে এই নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। বদ্বীপ অঞ্চলে আকারের দিক দিয়ে মেঘনার পর পশুরের স্থান। পশুর নদী চালনা থেকে প্রায় ৩২ কিমি দক্ষিণে মংলা খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তারপর প্রায় দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়ে মোহনার ৩২ কিমি উত্তরে শিবসার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

এই নদীটি সুন্দরবন লাগোয়া নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতে পণ্যবাহী জাহাজ, সুন্দরবন ভ্রমণের লঞ্চ, প্রাইভেট নৌযান কিংবা অন্য যেকোনো নৌযানে করে ভ্রমণের জন্য একটি অন্যতম ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করে এই পশুর নদীটি।  

প্রতিদিন সকাল থেকে শুরুকরে সন্ধা পর্যন্ত জীবিকার তাগিদে এই নদী বির্ভরশীল মানুষগুলোর অবিরাম ছুটে চলা । কেউ বা টিুরিষ্টদের বহন করেন কেউ বা মৎস শিকার করেন, আবার অনেকেই মালামাল বহন করেন, কেউ বা খেয়া পারাপার করেন এপার থেকে ওপারে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে নদী নির্ভরশীল মানুষগুলে ব্যস্ততম জীবণ ও জীবিকা……… 

পশুর নদীর ইতিহাস ও গুরুত্ব:

  • পশুর নদী সুন্দরবনের একটি প্রধান নদী, যা সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • এই নদীটি মংলা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রধান ভূমিকা রাখে।
  • পশুর নদী সুন্দরবনের ভেতরের লবণাক্ত পানির প্রধান যোগানদাতা।
  • সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • এটি সুন্দরবনের ভেতরের প্রধান প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম।
  • এই নদীটি সুন্দরবনের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস।
  • এই নদীর উপর অনেক মানুষ নির্ভরশীল।

বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫

ষাট গম্বুজ মসজিদ, খুলনা বাগেরহাট।


 

ষাট গম্বুজ মসজিদ

 বাংলাদেশ খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। এই মসজিদের সৃষ্টি নিয়ে যেমন, বিতর্ক রয়েছে তেমনি বিতর্ক রয়েছে, এই মসজিদের নামকরণ নিয়েও।  মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই  এই মসজিদটি কোন সময়ে নির্মিত হয়েছে, কে নির্মাণ করেছে, কিভাবে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এই মসজিদটির মোট গম্বুজের সংখ্যা কতটি রয়েছে। এসকল বিষয়ে নানা বিতর্কের উত্তর দিব আমাদের আজকের আয়োজনে। 

চলুন প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক এই মসজিদটির পরিদর্শনের বিস্তারিত------

এই মসজিদটি পরিদর্শন করতে চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলা সদর বাস ষ্টান্ডে আসতে হবে। সেখান থেকে সি এস জি অথবা অটোরিকশা করে চলে আসতে পারেন ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে। এখান থেকে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করে এই মসজিদ টি পরিদর্শন করতে হবে । এখানে বিদেশী পর্যটকদের জন্য টিকিট মূল্য ৫০০ টাকা, সার্কভূক্ত দেশগুলোর পর্যটকদের জন্য প্রবেশ মূল্য ২০০ টাকা এবং বাংলাদেশী নাগরীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা।

 

টিকেট সংগ্রহ করে ভিতরে প্রবেশ করলেই হাতের ডানপাশে পেয়ে যাবেন বাগরেহাট যাদুঘর। যেখানে রয়েছে সারাদেশের ঐতিজ্যবাহী মসজিদ, পুরাতাত্ত্বিক স্থাপত্যের ছবি, খান জাহান আলীর মাজারের ঐতিহাসিক কুমিরের মমি এবং প্রাচীন আমলের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন বিভিন্ন স্মৃতি চিহৃ,মূদ্রা, বাসন, তৈজসপত্র,মানচিত্র এবং লিপিবদ্ধ ইতিহাস। এছাড়াও ৬০ গম্বুজ মসজিদের অবকাঠামো প্রদর্শন করা হয়েছে।  যা দেখলে প্রাচীন ইতিহাসের নিদর্শনগুলি উপলদ্ধি করতে পারবেন।

চলুন এই মসজিদটি নির্মান সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে আসি।

অনেকগুলো অনলাইন পোর্টালে এই মসজিদ নির্মান সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া আছে। যেখানে লেখা আছে, ধারণা করা হয় এই ,মসজিদটি ১৫শ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এই মসজিদটি নির্মানি করেছেন হযরত খান জাহান আলী।  

হযরত খান জাহান আলী জন্মগ্রহণ করেন 1369 খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যুবরণ করেছেণ ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে। তাহলে কিভাবে সম্ভব ১৫শত খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মান করা। তবে ধারণা করা হয় এই মসজিদটি হযরত খান জাহান আলীর শ্বাসন আমলেই নির্মান করা হয়েছে। 

এই মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। পাথরগুলো আনা হয়েছিল রাজমহল থেকে। বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে ১টি হলো বেগেরহাট জেলায় অবস্থিত 60 গম্বুজ মসজিদ। যার ফলে  বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

 

 এই মসজিদের নামকরণ নিয়েও রেয়েছে নানা বিতর্ক, এসকল বিষয়ে বিস্তারিত জেনে আসি।

 ঐতিহাসিকরা মনে করেন, সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলেই এ মসজিদের সাত গম্বুজ নাম থেকে ষাটগম্বুজ নামটির উৎপত্তি হয়েছে। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, গম্বুজগুলো ৬০ টি স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলেই নাম ষাটগম্বুজ হয়েছে। আবার কেউ বলেন এই মসজিদটির ছাদ গম্বুজ আকৃতির হওয়ায়,  ছাদ গম্বুজ নাম থেকে ৬০ গম্বুজ নামকরণ করা হয়।

 

মসজিদটির নাম ষাট গম্বুজ (৬০ গম্বুজ) মসজিদ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয়,বরং গম্বুজ সংখ্যা ৮১টি। ১১টি সারিতে ৭টি করে  মোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে এছাড়াও ৪পাশে ৪টি মিনারের উপরে রয়েছে আরও ৪টি গম্বুজ সর্বমোট ৮১ টি গম্বুজ। পূর্ব দেয়ালের মাঝের দরজা উপরের সারিতে যে সাতটি গম্বুজ সেগুলো দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের চৌচালা ঘরের চালের মতো। 

 

বহির্ভাগ

মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড়। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনার আছে।

মিনারগুলোর উচ্চতা, ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিড়ি আছে এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থা ছিল। এদের একটির নাম রওশন কোঠা, অপরটির নাম আন্ধার কোঠা। মসজিদের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় এগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে। এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে। প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো, শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

 

মসজিটির পশ্চিম পাশে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি দিঘী। যার নাম ঘোড়া দিঘী। ধারনা করা হয় হযরত খান জাহান আলী বাংলায় পদার্পণের পর সাধারণ মানুষের পানির অভাব দূর করার উদ্দেশ্যে ৩৬০ দিঘী খনন করেছিলেন। যার ১ম দিঘীটি এই ৬০ গম্বুজ প্রাঙ্গণে খননকৃত ঘোড়া দিঘী।

তো বন্ধুরা এই ছিলো আমাদের আজকের আয়োজনে। পরবর্তীতে অন্য কোন দর্শনীয় স্থানের সৌন্দর্য্য তুলে ধরবো আপনাদের মাঝে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ। 

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) মাজার।


 

হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) ছিলেন একজন সুফি সাধক ও ধর্ম প্রচারক। তিনি পঞ্চদশ শতকে বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মাজারের ইতিহাস নিম্নরূপ:

  • জন্ম ও পরিচয়:
    • খান জাহান আলীর প্রকৃত জন্ম তারিখ অজানা। ঐতিহাসিকদের মতে, তার বাল্যনাম ছিল কেশর খান।
    • তিনি দিল্লিতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
    • তিনি প্রায় ৪০ বছর দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রচার ও শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
  • বাংলাদেশে আগমন ও কার্যক্রম:
    • ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি যশোরের বারবাজারে অবস্থান করেন এবং বাংলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার শুরু করেন।
    • তিনি সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ত পানির পরিবর্তে মিঠা পানির ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে সৈন্যবাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৩৬০টি দিঘি খনন করেন।
    • তিনি বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অনেক মসজিদ ও দিঘি নির্মাণ করেন।
  • স্থাপত্যশৈলী:
    • খান জাহান আলী তার তৈরি স্থাপনাগুলোতে একটি নতুন স্থাপত্যশৈলীর প্রবর্তন করেছিলেন, যা তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
    • তিনি ৫০টিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছিলেন।
  • মৃত্যু ও মাজার:
    • ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
    • তার সমাধি সৌধটি একটি বর্গাকার ভবন, যার উপরে একটি গম্বুজ রয়েছে।
    • তার মাজারে লিখিত শিলালিপি থেকে তার জীবনের বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।
    • তার মাজারটি একটি পবিত্র স্থান, যেখানে প্রতি বছর বহু ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
  • গুরুত্ব:
    • হযরত খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনও বটে।
    • খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজার প্রাঙ্গণে একটি জাদুঘর রয়েছে, যেখানে তার ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

এই মাজারটি তৎকালীন স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন।

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণের বিস্তারিত


সুন্দরবন, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ একটি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা অংশ উপভোগ করা সম্ভব। এখানে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হলো:

ভ্রমণের শুরু:

  • ঢাকা থেকে সুন্দরবন: ঢাকা থেকে মংলার দুরত্ব ২১৫ কিঃ মিঃ। যেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। ঢাকা থেকে রাত ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ভালো হয়।
  • খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা থেকে সুন্দরবনে ঘোরার জন্য লঞ্চ বা ট্রলার ভাড়া করতে হবে। এটি আগে থেকে বুক করে রাখলে সুবিধা হবে।

দিনের শুরু:

  • সকাল ৬:০০টা - ৭:০০টা: খুব ভোরে রওনা দিন, যাতে দিনের আলো পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়।
  • সকাল ৭:০০টা - ৯:০০টা: লঞ্চ বা ট্রলারে করে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন।

দর্শনীয় স্থান:

  • করমজল: এটি সুন্দরবনের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। এখানে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ এবং বানর দেখা যায়।
  • হাড়বাড়িয়া: এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে, যেখান থেকে বনের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
  • কটকা: এটি একটি সমুদ্র সৈকত এবং এখানেও হরিণ ও বাঘ দেখার সম্ভাবনা থাকে। তবে একদিনে কটকা যাওয়া সম্ভব নয়।
  • দুপুরের খাবার:

    • লঞ্চ বা ট্রলারেই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকে। সাধারণত স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।

    বিকেল:

    • বিকেল ৩:০০টা - ৪:০০টা: সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীপথে ভ্রমণ করুন। এই সময় বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

    সন্ধ্যা:

    • সন্ধ্যা ৬:০০টা - ৭:০০টা: খুলনা/মংলার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
    • রাত ৮:০০টা - ১০:০০টা: খুলনা/মংলায় ফিরে আসুন এবং রাতের বাসে  ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।

    কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

    • সুন্দরবনে যেতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।
    • ভ্রমণের সময় জোয়ার-ভাটার দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
    • বন্যপ্রাণী দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে হয় এবং শান্ত থাকতে হয়।
    • ভ্রমণের আগে লঞ্চ বা ট্রলারের ফি এবং অন্যান্য খরচ জেনে নিন।
    • সুন্দরবনে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা হতে পারে।
    • ভ্রমণের সময় সাথে পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় নিন।
    • বন্যজীবনের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।
    • এই পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিনে সুন্দরবনের কিছুটা অংশ ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে সুন্দরবনের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে কমপক্ষে ২-৩ দিনের ভ্রমণের প্রয়োজন।


 

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর



বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের অবস্থানঃ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরটি ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত। এটি বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর নামেও পরিচিত। ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত নভোথিয়েটারের পশ্চিম পাশে এই যাদুঘরটির অবস্থান। জাদুঘরটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। এই যাদুঘরটিতে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাস ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম নিদর্শন প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের দেশের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।

যাদুঘরটি পরিদর্শণের সময় সূচী ঃ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর সাধারণত শনি থেকে বৃহস্পতিবার খোলা থাকে এবং বুধবার বন্ধ থাকে। এছাড়াও, সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও জাদুঘর বন্ধ থাকে।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা (বুধবার শুক্রবার বাদে)
  • বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা (বুধবার বাদে)

 

যাদুঘরে প্রবেশের টিকেট মূল্য ঃ

জাদুঘরে প্রবেশ করতে হলে টিকেট কাটতে হয়। বাংলাদেশী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকেটর দাম ১০০ টাকা,

সার্কভূক্ত দেশগুলির দর্শনার্থীদের জন্য জন প্রতি ৩০০ টাকা এ্বং অন্যান্য দেশগুলির দর্শনার্থীর জন্য জন প্রতি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ ফ্রি। আপনি চাইলে অনলাইনেও টিকেট কাটতে পারেন।

 

সামরিক যাদুঘরে কি কি দেখবেন ঃ

জাদুঘরের ভিতরে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম, যেমন - অস্ত্র, যুদ্ধাস্ত্র, এবং সামরিক যান দেখতে পাবেন। এছাড়াও, এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অবদান সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম নিদর্শন দেখতে পাবেন, যা দেশের সামরিক ইতিহাস ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। এখানে কিছু উল্লেখযোগ্য জিনিস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

  • সামরিক যান: এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান দেখতে পাবেন, যেমন - ট্যাংক, সামরিক ট্রাক, জিপ ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কিছু যান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  • অস্ত্র গোলাবারুদ: জাদুঘরে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ঐতিহাসিক অস্ত্র গোলাবারুদ প্রদর্শিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে রাইফেল, মেশিনগান, কামান, এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র।
  • সামরিক পোশাক সরঞ্জাম: এখানে বিভিন্ন সময়কালের সামরিক পোশাক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয়, যা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত হত।
  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন নিদর্শন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছবি, দলিল, এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখা যায়।
  • বঙ্গবন্ধু কর্নার: এখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক জীবন অবদান সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ছবি প্রদর্শিত আছে।

এছাড়াও, জাদুঘরে আরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন তথ্য রয়েছে যা আপনাকে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

 

সামরিক যাদুঘরে ঘুরতে এসে কি খাবেনঃ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে ঘোরার পাশাপাশি সেখানে কিছু খাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। জাদুঘরের ভেতরেই একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে, যেখানে আপনি হালকা খাবার পানীয় পেতে পারেন। এখানে কিছু সাধারণ খাবারের উদাহরণ দেওয়া হলো:

  • স্ন্যাকস: বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস যেমন - স্যান্ডউইচ, রোল, সমুচা, পেটিস ইত্যাদি পাওয়া যায়।
  • পানীয়: চা, কফি, কোমল পানীয়, এবং মিনারেল ওয়াটার এর ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়াও, জাদুঘরের আশেপাশে অনেক রেস্টুরেন্ট ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে, যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের খাবার উপভোগ করতে পারেন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী, আপনি এই দোকানগুলো থেকে আপনার খাবার বেছে নিতে পারেন।

জাদুঘরের ভেতরে খাবার পানীয় নিয়ে যাওয়া সাধারণত নিষেধ। তবে, আপনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যেতে পারেন।

 

এই সামরিক যাদুঘর সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-

https://www.youtube.com/@TravelFamilybd

বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৫

হিজল তমাল রিসোর্টের সম্পূর্ণ গাইড লাইন।


 

হিজল তমাল রিসোর্ট। ঢাকা পূর্বাচল নিই টাউনের খুব কাছেই গাজীপুরের উদুর আমতলা নামক স্থানে এই রিসোটটি গড়ে উঠেছে । হিজল, তমাল সহ হাজারো ফুলের সমারোহ রয়েছে এখানে। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে অনভব করতে চাইলে আসতে পারেন এই রিসোর্ট টিতে। কিভাবে যাবেনঃ ঢাকার কুড়িল থেকে বিআরটিসি বাস অথবা যে কোন যোগে ৩০০ ফিট রাস্তা হয়ে আসতে হবে কাঞ্চন ব্রীজ পয়েন্টে। এখান থেকে সি.এস.জি অথবা অটোরিস্কা করে এশিয়ান হাইওয়ে রোড হয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই চলে আসতে পারেন উদুর আমতলা নামক স্থানে হিজল তমাল রিসোর্টে। হিজল তমাল নামকরণ ঃ এখানে প্রচুর হিজল ও তমাল গাছ থাকায় এই রিসোর্টটির নাম করণ করা হয়েছে হিজল তামাল রিসোর্ট। প্রবেশ টিকেট ঃ রিসোর্টিতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য কোন টিকেটের প্রয়োজন হয় না, তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এই রিসোর্টটি ঘুরে দেখতে পারবেন। এছাড়াও যারা পিকনিক পার্টি করতে চান তাদেরকে রিসোর্ট ভাড়া দিয়েই পিকনিক পার্টি করতে হবে। এই রিসোর্টে কি কি থাকছে ঃ রিসোর্টটির মূল ফটকে প্রবেশ করলেই পেয়ে যাবে অসংখ্য ফুলের সমারহ যা দেখলে আপনার মন সতেজ হয়ে যাবে। রিসোর্টটির ২য় গেটের আগে রয়েছে বেশ বড় আকারের খালি যায়গা রয়েছে। যেখানে আগত দর্শনার্থীদের গাড়ী পার্কিং করে রাখতে পারবেন। ২য় গেটে প্রবেশ করলে হাতের বা পাশে পেয়ে যাবেন ছোট্ট আর একটি গার্ডেন, আর এই গার্ডেন কে কেন্দ্র করে নিজেকে ক্যমেরায় ফ্রেমে বন্দী করে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২টি ছোট্ট কটেজ সেই সাথে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রয়েছে একটি পানির ফোয়ারাও। আর হাতের ডান পাশে রয়েছে আর একটি গার্ডেন যেখানে চায়ের আড্ডাই মেতে থাকার জন্য রয়েছে একটি টি পয়েন্ট। সামনের দিকে রিসোর্টের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি ভাসমান ব্রিজ এবং ব্রিজের বা পাশে রয়েছে একটি ভাসমান ছোট্ট গার্ডেন। যেখানে বিকাল বেলা নিরিবিল বসে সময় কাটাতে পারবেন। পুরা রিসোর্ট জুড়ে রয়েছে ইটের রাস্তা এবং রাস্তার দুপাশে পাতা বাহারের সমারহ। রয়েছে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য ছোট্ট একটি মাঠ। এখানে রয়েছে একটি ফুটবলা খেলার মাঠ। এই রিসোর্টটির রাস্তায় হাটলে মনে হবে আপনি কোন এক গ্রামের গহীন অরণ্যে আপনি হারিয়ে যাচ্ছেন। রিসোর্টটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত খালি যায়গা। যেখানে পিকনিক পার্টির বিভিন্ন প্রগ্রাম করার জন্য রয়েছে একটি সুন্দর ষ্টেজ। রিসোর্টটিতে রয়েছে আম, জাম, কাঠাল, লিচু সহ অসংখ্য গাছপালা। চারিদিকে সবুজের সমারহ, গাছে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরণের দোলনা, এছাড়াও রয়েছে বসে বিনোদোনের জন্য ছিটিং পয়েন্ট। এখানে রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামে বাশের তৈরি কটেজ যা গ্রমীণ পরিবেশেরর অবকাঠামো ঠিক রেখেই দক্ষ করিগর দিয়ে এই কটেজটি তৈরি করা হয়েছে। কটেজটির পাশেরই রয়েছে ঢেকি ঘর। এই ঢেকি সম্পর্কে আধুনিক সভ্যতার অনেকেরিই হয়তো ধারণা নাই। এখানে রয়েছে আরও একটি কটেজ যা, গ্রামীণ বাড়ী ঘরের আদলে তৈরি করা হয়েছে। যার ভিতরে রয়েছে আধুনিকতার ছোয়া ঢাকার ইট কাঠের ব্যস্ত শহরের দূষণ পরিবেশ থেকে বের হয়ে গ্রামীন পরিবেশে প্রশান্তির নিশ^াস নিতে পারবেন এই রিসোর্টটিতে। রিসোটটির চার পাশ দিয়ে রয়েছে সুন্দর ইটের রাস্তা, আর এই রাস্তার কিছু দুর পরপর রয়েছে ছোট ছোট বাশের তৈরি কটেজ যেখানে বসে চায়ের আড্ডায় কিছুটা সময় পার করতে পারেন। রিসোর্ট ভাড়ার বিস্তারিত ঃ রিসোর্টটিতে সাধারণ দর্শনার্থদের জন্য কোন টিকেট লাগেনা তবে যারা পিকনিক স্পট হিসাবে ভাড়া নিতে চান তারা তার 01915-048311 অথবা 01717-736964 এই নাম্বারে যোগাযোগ করে রিসোর্টটি ভাড়া নিতে পারবেন।

বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫

সোনারগাঁও জাদুঘর, নারয়নগঞ্জ । বাংলাদেশের ঐতিহ্যের জীবন্ত জাদুঘর


 

সোনারগাঁও জাদুঘর: বাংলাদেশের ঐতিহ্যের জীবন্ত জাদুঘর

সোনারগাঁও, একসময় বাংলার রাজধানী, আজও তার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও লোকশিল্পের জন্য পরিচিত। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের অধীনেই গড়ে উঠে সোনারগাঁও জাদুঘর, যা বাংলাদেশের লোকশিল্পের একটি অনন্য সংগ্রহশালা।

জাদুঘরের ইতিহাস ও গুরুত্ব

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে।
  • উদ্দেশ্য: বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরা।
  • সংগ্রহ: প্রায় ৪৫০০-এর অধিক প্রাচীন নিদর্শন।
  • বিশেষত্ব: বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার প্রাচীন শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের তৈরী বিভিন্ন শৈল্পিক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্য সামগ্রী।

জাদুঘরে কি কি দেখা যাবে?

  • লোকশিল্পের নানা রূপ: মৃন্ময় শিল্প, কাঠের কাজ, তামার কাজ, সুতার কাজ, বাঁশের কাজ, পাথরের খোদাই ইত্যাদি।
  • প্রাচীন বাংলার গৃহস্থালির সামগ্রী: পাত্র, বাসন, আসবাবপত্র, আলংকারিক সামগ্রী ইত্যাদি।
  • ধর্মীয় মূর্তি ও প্রতীক: বিভিন্ন ধর্মের মূর্তি ও প্রতীক।
  • প্রাচীন বাংলার পোশাক: বিভিন্ন সময়ের পুরুষ ও নারীর পোশাক।
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কাজ: তাঁর কিছু মূল্যবান কাজও এখানে সংরক্ষিত আছে।

কেন সোনারগাঁও জাদুঘর দেখতে যাবেন?

  • বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাক্ষী: বাংলাদেশের লোকশিল্পের ইতিহাস ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে।
  • শিল্প ও সংস্কৃতির সমন্বয়: শিল্প ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় উপভোগ করতে।
  • শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক: শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি স্থান।
  • দেশপ্রেম জাগানো: দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগানো।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

  • কোথায়: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
  • কখন যাবেন: বছরের যেকোন সময়।
  • কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সোনারগাঁও যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন বা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
  • কত খরচ হবে: প্রবেশ মূল্য এবং ভ্রমণ খরচ।

আরও জানতে

সোনারগাঁও জাদুঘর শুধু একটি জাদুঘর নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত জাদুঘর।

আপনি কি সোনারগাঁও জাদুঘর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন।

আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আরও জানতে চান, তাহলে আমাকে জানান।

সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৫

চন্দ্রিমা/জিয়া উদ্যানের অজানা ইতিহাস


 

চন্দ্রিমা/জিয়া উদ্যানের ইতিহাস

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ। এই উদ্যানটি শুধুমাত্র একটি সবুজ স্থান নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অংশও বহন করে।

সর্বপ্রথম এই উদ্যানটির নাম ছিল চন্দ্রিমা উদ্যান, এই নামটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এই স্থানটিতে চন্দ্রিমা নামের একজনে বাড়ি ছিল এখানে, এই চন্দ্রিমা নাম থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে।

আবার অনেকের মুখে সেনা যায় এই উদ্যানটির দক্ষিণ পাশে ক্রিসেন্ট লেকটি অর্ধচন্দ্রের মত করে তৈরি করা হয়েছে বলে এই লেককে প্রাধান্য দিয়ে প্রক্তন রাষ্ট্রপতি হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ এই উদ্যানটির নাম দিয়েছে চন্দিমা উদ্যান।

 



চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে জিয়া উদ্যান: প্রথমে এই উদ্যানটি চন্দ্রিমা উদ্যান নামে পরিচিত ছিল। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এখানে সমাহিত করা হয়। এরপর থেকে এই স্থানটির নাম পরিবর্তন করে জিয়া উদ্যান করা হয়।

  • ক্ষমতার পালাবদল এবং নাম পরিবর্তন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওঠা-নামার সাথে সাথে এই উদ্যানের নামও বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই উদ্যানের নাম চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে জিয়া উদ্যান এবং আবার জিয়া উদ্যান থেকে চন্দ্রিমা উদ্যান রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই উদ্যানটি জিয়া উদ্যান নামে রয়েছে।
  • দর্শনীয় স্থানে রূপান্তর: জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করার পর থেকে এই স্থানটিকে দর্শনার্থীদের জন্য মনোরম একটি স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এখানে একটি সুন্দর বাগান, হ্রদ এবং একটি আধুনিক সেতু রয়েছে।
  • রাজনৈতিক গুরুত্ব: জিয়া উদ্যান শুধুমাত্র একটি উদ্যান নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের কাছে এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র।




কেন জিয়া উদ্যান গুরুত্বপূর্ণ?

  • ইতিহাসের সাক্ষী: জিয়া উদ্যান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
  • ধর্মীয় অনুভূতি: বিএনপি সমর্থকদের জন্য এই স্থানটি একটি ধর্মীয় অনুভূতি জাগায়।
  • সামাজিক কেন্দ্র: এই উদ্যানটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি সামাজিক কেন্দ্রও।
  • দর্শনীয় স্থান: ঢাকার একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।

কিছু তথ্য

  • অবস্থান: ঢাকার শেরেবাংলা নগর।
  • নামকরণ: জিয়াউর রহমানের নামানুসারে।
  • মূল ব্যবহার: আগে চাষাবাদ এবং গবাদিপশুর খামার।
  • বর্তমান ব্যবহার: উদ্যান, সমাধিস্থল, দর্শনীয় স্থান।

আপনি কি জিয়া উদ্যান সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চান?

  • আপনি জিয়াউর রহমানের জীবনী সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে বলুন।
  • এই উদ্যানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে বলুন।
  • এই উদ্যানে যাওয়ার নির্দেশনা চাইলে আমাকে বলুন।

পশুর নদীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব

  পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৪২ কিলোমিটার, প্রস্থ ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কিলোমিটা...