সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪

সেন্টমার্টিনে ১ রাত ২ দিনের সম্পূর্ণ গাইড লাইন ।


 

বর্ননা ঃ

বর্তমানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম অনুযায়ী কক্সবাজার নুনিয়ারছড়া জেটি ঘাট থেকে ভোর ৭:০০ টা নাগাদ আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন সময় দুপুর আনুমানিক দুপুর ১২:৪০ মিনিট। আমরা পৌছে গেছি সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে। আমাদের আজকের পর্বে থাকছে সেন্টমার্টিনে এসে কোন অবস্থানে হোটেল ভাড়া নিবেন, কোন বীচে পানিতে নেমে গোসল করবেন, কোথায় খাবেন, কোথায় কোথায় ঘুরে দেখবেন। টাইম অনুযায়ী পরিপূর্ণ গাইড লাইন থাকছে। সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখলে আশাকরি সেন্টমার্টিন এসে আপনাদের এক্সটা কোন হ্যাসেল হবে না।


হোটেল ভাড়া ঃ

বাজারের পাশে ডেল পাড়ায় অবস্থিত রোজমেরি রিসোর্টে রুমটি আমরা ভাড়া নিয়েছি ১ রাতের জন্য ১৫০০ টাকা। এই রিসোর্টিতে বেশিরভাগ সময় রুম খালি থাকে। এখানে যদি আপনার রুম ভাড়া নিতে চান তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন সরাসরি হোটেলের মালিকের সাথে।

রোজমেরি রিসোর্টের মালিকের নাম ঃ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোবাইল নং ঃ ০১৮১৭-১১৯৯৬০। এই নাম্বারে যোগাযোগ করে রুম বুকিং করে নিতে পারেন। আর আপনি যদি আমার চ্যানেলের রেফারেন্স দেন তাহলে মূল ভাড়া থেকে ২% ছাড় পেয়ে যাবেন।

গাইড ঃ

এখন সময় দুপুর ১২:৪০ মিনিট। আমরা অবস্থান করছি সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে। এখান থেকে আমরা সরাসরি চলেযাব হোটেল ভাড়ার সন্ধানে। বাজারের আশে পাশে হোটেল ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে সেন্টমার্টিনের সকল পর্যটন স্থান গুলো কাছে পেয়ে যাবেন। যেমন ঃ সেন্টমার্টিনের প্রধান বীচ ”উত্তর বীচ বাজারের কাছেই অবস্থিত। খাবারের জন্য বাজারটা কাছে হবে। আসা জাওয়ার জন্য জেটিঘাট কাছে হবে।


এখন সময় দুপুর ১:৩০ মিনিট। আমরা ড্রেস চেঞ্জ করে গোসলের জন্য যাচ্ছি সেন্টমার্টিন উত্তর বীচে। উত্তর বীচে আমরা ১-১.৫ ঘন্টা সমূদ্রের পানিতে দাপাদাপি করবো। সমূদ্র ¯œান শেষ করে আমরা চলে আসবো আমাদের হোটেলে।

এখন সময় দুপুর ২টা বেজে ৫০ মিনিট । আমরা বের হয়েছি দুপুরের লান্সের উদ্দেশ্যে। সেন্টমার্টিন বাজারে অসংখ্য খাবার হোটেল রয়েছে। পছন্দ মত যে কোন একটি খাবার হোটেলে বসে পড়–ন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী মাছ বাছাই করে দিন। খেয়ল রাখবেন মসলা মাখা মাছের মধ্যে অনেক পঁচা মাছ থাকে। আর অবশ্যই মাছের সাইজ অনুযায়ী মূল্য যাচাই করে নিবেন। কারণ এখানে মাছের দাম অনেক বেশি নেই।

এখন সময় দুপুর ৩:৩০ মিনিট দুপুরের লান্স শেষ করে আমরা চলে এসেছি সরাসরি সেন্টমার্টিন উত্তর বীচে। এখানে সেন্টমার্টিন বীচকে কেন্দ্র করে অসংখ্য সিটিং প্লেস রয়েছে এখান থেকে ঘন্টা প্রতি ৪০ টাকা করে সিট ভাড়া করে সমূদ্রের গর্জন সুনতে সুনতে এক ঘন্টা রেষ্ট নিব। এতে করে আপনার ভ্রমণের ক্লান্তিটা অনেকটা দূর হবে। এখন সময় ৪:৩০ মিনিট।

আমরা এখন যাচ্ছি সেন্টমার্টিন পশ্চিম বীচে। উত্তর বীচের খুব কাছেই সেন্টমার্টিন পশ্চিম বীচ। সূর্যাস্ত দেখার জন্য দেখার জন্য সেন্টমার্টিনে আগত বেশিরভাগ পর্যটকই সেন্টমার্টিন পশ্চিম বীচে ভীড় জমায়। সূর্যাস্তকে কেন্দ্র করে বিকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বেশ জম জমাট থাকে এই পশ্চিম বীচ। এখানে গড়ে উঠেছে ডাব, ফুসকা চটপটি সহ বেশ কিছু খাবারের দোকান পাট। সেন্টমার্টিনে রয়েছে প্রচুর নরিকেল গাছ। অসংখ্য নারিকেল গাছ থাকার করাণেই এই সেন্টমার্টিন দ্বীপটি অনেকের কাছে নারিকেল জীনজিরা নামেও পরিচিত। প্রচুর নারিকেল গাছ থাকা সত্তেও এখানে কিন্তু ডাবের দাম অনেক বেশি। আমি একটি বড় সাইজের ডাব নিয়েছি মূল্য নিয়েছে ২০০ টাকা । তবে সেন্টমার্টিনের ডাবের টেষ্ট অনেক ভালো। আমরা পশ্চিম বীজে প্রায় ২ ঘন্টা সময় দিয়েছি।

এখন সময় সন্ধা ৭:০০ বাজে। আমরা এখন চলে যাব সেন্টমার্টিন বাজারে। উদ্দেশ্য ফিস বারবিকিউ। সেন্টমার্টিন বাজারে অসংখ্য হোটেল রয়েছে এসকল হোটেলে সন্ধার পর সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতীর মাছের বারবিকিউয়ের আয়োজন করে থাকে। আপনি চাইলে যে কোন একটি হোটেল থেকে আপনার পছন্দমত মাছ বাছাই করে অর্ডার করতে পারেন। তবে অর্ডার দেওয়ার আগে দাম যাচাই করে নিবেন। এখানে কিন্তু মাছের দাম অনেক বেশি নেয়। যাই হোক অর্ডারের পরে ১ ঘন্টা সময় নিবে আপনার মাছটি বারবিকিউ করতে। এই ১ ঘন্টা সময়ে আপনি বাজারটা ঘুরে দেখতে পারেন। ১ঘন্টা পর আপনি বারবিকিউ খেয়ে কিছুটা ঘোরাঘুরি করে রাতে রেষ্ট নিতে পারেন।

পরবর্তী দিন ভোর ৬:০০ নাগাদ চলে আসতে হবে উত্তর পূর্ব বীচে। এখানে জাল টেনে মাছ ধরার দৃশ্ব সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। এর পর আমরা চলে যাব পাশেই জেটি ঘাটে। সেখান থেকে ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। ছেড়া দ্বীপ যেতে অনেকে স্পীড বোট, লাইফ বোট এবং ট্রলার ব্যবহার করে থাবেন। এছাড় স্থল পথে ছেড়া দ্বীপ যেতে অনেকে বাই সাইকেল, মটর সাইকেল ভ্যান অথবা অটো রিকস্া ব্যবহার করে থাকেন। যাই হোক ছোড়া দ্বীপ যেয়ে ১-২ ঘন্টা ঘোরঘুরি করবেন। এরপর ফিরে আসবেন সেন্টমার্টিন বাজারে। সেখান থেকে দুপুরের লান্স করে বীচে গিয়ে কিছুটা সময় রেষ্ট নিবেন। এর পর বেলা ৩:০০ ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে জেটি ঘাটে এসে জাহাজে উঠবেন। বেলা ৩:৩০ মিনিটে জাহাজ ছেড়ে যাবে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পশুর নদীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব

  পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৪২ কিলোমিটার, প্রস্থ ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কিলোমিটা...